১৮-৫৫ লেন্স

যারা ১৮-৫৫ লেন্স হাতে রেখে অন্য আরেকজনের হাতে লাল ফিতা এল লেন্স দেখে হা হুতাশ করেন । তাদেরকে বলছি আগে কম্পোজিশন শিখেন, লাইটটাকে বোঝার চেষ্টা করেন। তাহলে অসাধারন কিছু ফ্রেম করতে পারবেন। কাউকে কপি করবেন না নিজের ভিতর থেকে ফ্রেম বানান নিজের ভালো লাগা বলে কথা। আপনার নিজস্ব ভাবনায় ছবি দেখে অন্য আরেকজনের উক্তি যদি থাকে, “কি ঘোড়ার আন্ডা তুলছোস, এইটা কিছু হইছে !” এখানে মন খারাপ করার কিছু নেই আপনি প্রাথমিক স্তরে পার হয়েছে তাই আপনি তুলতে পারছেন তা প্রতীয়মান হযেছে। আপনার প্রশ্ন আমাদের করুন। আমরা সবাই মিলে শিখব শিখাব। আমাদের এখানে কোন ছোট-বড় ফটোগ্রাফার বলে কিছু নেই। আমাদের পার্থক্য শুধু একটাই অভিজ্ঞতার তারতম্য। বেশী বেশী করে শিখুন অভিজ্ঞতার ভান্ডার বাড়ান। যারা ১৮-৫৫ কে পাত্তা দিতে চান না তাদের জন্যে এই লিংক http://www.pixel-peeper.com/lenses/?lens=25 । এখানে এক্সিভসহ ছবি দেখতে পারবেন আপনাদের সহজে আইডিয়া হয়ে যাবে কোন ধরনের আলো ক্ষেত্রে কি ধরনের সের্টিংস ব্যবহার হয়ে থাকে।

Advertisements

একটি ক্যাপশন কিন্তু একটি ছবির পরিচয়

ক্যাপশন একটা ছবিকে নামকরন করে। যেমন: একটা মানুষের নাম রহিম, করিম হয়ে থাকে। কোটি কোটি মানুষের ভিতর আপনি কাউকে যদি বলে আমি মানুষের বাসায় যেতে চাই । সে বিভ্রান্ত হয়ে যাবে।

একটি ছবির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, একটি ক্যাপশন যা হতে পারে একটি শব্দ অথবা অধিক সম্বলিত শব্দ নাম ও ছবির পরিচয় । যা প্রতিটি ছবির নিজস্বতা ও স্বকীয়তা সৃষ্টি করে । যেমন: ধরেন, সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ড্রিম বেয়ন্ড ইমাজিনেশন প্রদশর্নীতে ২০০ জনের মতন ফটোগ্রাফারের ছবি ছিল। আয়োজক কর্তৃক এই ছবিগুলো সংগ্রহ করতে ফটোগ্রাফারকে জানানো হয়েছিল ক্যাপশন এবং ছবির ক্যাটাগরী। যার ফলে একজন ফটোগ্রাফার সহজে বুঝতে পেরেছেন কোন ছবিটির কথা বলা হয়েছে।

আমার ল্যান্ডস্কেপ তুলতে ভালো লাগে। পাহাড় আমার প্রিয় বিষয়। আমাকে যদি বলে কেউ ভাই আপনার পাহাড়ের ছবিটা কোথায় তোলা তখন আমি নিজেই বিভ্রান্ত হয়ে যাই কোন ছবিটির কথা বলা হচ্ছে। কেননা, রাঙামাটি, বান্দরবন, সিলেট এসব জায়গার পাহাড়ের ছবি আমি তুলেছি। তাছাড়া আমরা যারা ফটো সাবমিট করি পরবর্তীতে আমাদের পক্ষে কোন ছবিগুলো সাবমিট করা হয়েছে সেগুলো মনে রাখা দুস্কর হয়ে গেছে। তাই ক্যাপশন এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্যাপশন একটি ছবির পরিচয় বহন করে।

সহজ শব্দ দিয়ে ক্যাপশন দিতে পারেন। ইংরেজী কিংবা বাংলা যে কোন ভাষাতে ক্যাপশন দিতে পারেন। আন্তজার্তিক ভাষা হিসেবে ইংরেজী সব জায়গাতে গ্রহনযোগ্য তাই বিদেশীদের কাছে বোধগম্য করতে আপনার এই ছবিতে ইংরেজী ভাষায় ক্যাপশন দিলে ভালো হয়। বাংলা ভাষায় যে ক্যাপশন দেওয়া যাবে না এমন কোন নিয়ম কানুন নেই। খুব যে কঠিন ভাষায়, মনের মাধুরী মিশিয়ে দিতে হবে তাও কিন্তু নয়, সহজবোধ্য ভাষায় ছবির মূল বক্তব্যের সাথে মিল রেখে দিবেন। একটা উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি, ক্যাপশন হতে পারে আপনি খুব ভোরের সূর্য উঠার ছবি তুললেন, সেটির ক্যাপশন দিতে পারেন, “কোন একদিন সূর্যোদয়ের ভোরে”।

তবে একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন ক্যাপশন হিসেবে তাচ্ছিল্য কিংবা হেয় ভাষা, অনাকাঙ্খিত শব্দ, উস্কানীমূলক শব্দের ব্যবহার, ক্যামেরার নাম ও মডেল নম্বর দিয়ে ক্যাপশন আপনার ছবি হাস্যরসের পাত্র হতে পারে, যা আপনার একটা সুন্দর ছবির মূল্য কমিয়ে দিতে পারে। যা একজন দর্শকের জন্যে বিরুক্তির কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একটা সুন্দর ক্যাপশনের কারনে দর্শকের কাছে যেকোন সাধারন ছবিও আরো বেশী অসাধারন ও আকষর্নীয় হয়ে উঠবে।

আপনি জানেন কি মেগাপিক্সেল কিভাবে হয়? প্রিন্টিং সাইজ কিভাবে বুঝবেন?

ফটো জিজ্ঞাসা:

আপনি জানেন কি মেগাপিক্সেল কিভাবে হয়? প্রিন্টিং সাইজ কিভাবে বুঝবেন?

মনে রাখবেন, এই পিক্সেল হচ্ছে একেকটা সিরামিকের টাইলসের মতন চারকোন ছোট ছোট বক্স। এক মেগাপিক্সেল মানে ১০,০০,০০০ (১০ লাখ) পিক্সেল মতন দেখবেন। ১ মেগাপিক্সেল কি করে বুঝবেন, ক্যামেরার গায়ে লেখা থাকে ১ মেগা। তাছাড়া ধরেন, আপনার ক্যামেরা ১০ মেগাপিক্সেল কেন ১০ মেগাপিক্সেল এটা জানতে তখন আপনি ক্যামেরা সেটিংস এ গিয়ে দেখবেন ফাইলের সবোর্চ্চ সাইজ ৫০০০*২০০০=১,০০,০০,০০০= ১০ মেগাপিক্সেল পেয়ে যাবেন। আমি এই গণনাতে ল্যান্ডস্কেপকে ডিফল্ট করেছি । সবোচ্চ সাইজ হতে পারে পাশাপাশি (ওয়াইডথ) কিংবা খাড়াখাড়ি (হাইথ)। ল্যান্ডস্কেপ ছবির ক্ষেত্রে ওয়াইডথকে সর্বোচ্চ করা হয়, পোট্রোট ছবির ক্ষেত্রে হাইথকে সর্বোচ্চ করা হয়। সুতরাং ১০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে দিয়ে যদি আপনি যত বড় প্রিন্ট করতে চান আপনাকে পিক্সেল রেজুলেশান বাড়াতে হবে যেমন আপনার সর্বোচ্চ ৫০০০ পিক্সেলকে ৩০০ ডিপিআই দিয়ে ভাগ করলে = ১৬ ইঞ্চি পরিমান সর্বোচ্চ ছবি সাইজ প্রিন্ট করতে পারবেন। কেউ যদি আপনাকে বলে ১৬ ইঞ্চি সাইজ দিতে হবে তখন আপনি ৫০০০ পিক্সেল ১৬ ইঞ্চি দিয়ে ভাগ করে দিবেন পেয়ে যাবেন ৩০০ ডিপিআই। ডিপিআই দিয়ে আপনি ছবির প্রিন্টিং সাইজ ঠিক করতে পারবেন।

ফটোগ্রাফারর্স রিয়ালিটি : হিডেন ট্রুথ টু বি এ ফটোগ্রাফার ইন এ ফার্স্ট ওয়ান ইয়ার

১. ফটোগ্রাফি শেখার প্রথম মাস – নিজের পোষা কুকুর,মাছ, ফুল, কাক মডেল। তাদের একইরকম শ’খানেক ফটো তোলা। ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়ে দুঃখ করা।

২. ফটোগ্রাফি শেখার দ্বিতীয় মাস – নিজের ঘরের মানুষের পোট্রেট, নিজের গ্রামের বাড়ীর ল্যান্ডস্কেপ, সাগর, নদী ইত্যাদি।

৩. ফটোগ্রাফি শেখার তৃতীয় মাস – বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন করা। অতঃপর সব ফটো নিয়ে মহা উৎসাহে ছবি প্রদশর্নীতে এই সব ছবি দেওয়া, সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে ক’দিনের জন্যে ফটোগ্রাফি থেকে বিরত।

৪. ফটোগ্রাফি শেখার চতুর্থ মাস – এসএলআর জন্যে ব্যাপক পরিকল্পনা করা। সিনিয়র ভাইবোনদের কাছ থেকে টিপস্ নেওয়া।

৫. ফটোগ্রাফি শেখার পঞ্চম মাস – ফটো সাফারীতে গিয়ে অন্যদের হাতে এসএলআর দেখে আশাহত হয়ে ছবি তুলতে লজ্জা পাওয়া।

৬. ফটোগ্রাফি শেখার ষষ্ঠ মাস – ব্যাপক ক্যামেরার ব্যাপারে লম্পঝম্প, হাজার প্রশ্ন নিয়ে সেরা ক্যামেরা খুঁজতে চলা ।

৭. ফটোগ্রাফি শেখার সপ্তম মাস – নিজের প্রিয়জনের কাছ থেকে এসএলআর উপহার পেয়ে সেটি নিয়ে রোজ রাতে ঘুমাতে যাওয়া ঘুরন্ত ফ্যান, চলন্ত টিভি, বন্ধু-বান্ধবীর ফটো তোলা।

৮. ফটোগ্রাফি শেখার অষ্টম মাস – চেনা – অচেনা প্রতিটি অনুষ্ঠানে গ্রুপ ফটো তোলা ।

৯. ফটোগ্রাফি শেখার নবম মাস – প্রাইম লেন্স, ফ্লাশ এগুলোর উপর ব্যাপক গবেষনা, কি করে ঝাপসা ব্যাকগ্রাউন্ড তোলা যায়। ফটোশপে কাজ শেখার চেষ্টা।

১০. ফটোগ্রাফি শেখার দশম মাস – প্রাইম লেন্স কিনে ইনডোর শুট শুরু করে দেওয়া। কনসেপ্টুয়াল ফটোগ্রাফির প্রেমে পড়া।

১১. ফটোগ্রাফি শেখার এগারো মাস – লুকিয়ে লুকিয়ে পোট্রেট তুলতে ভালো লাগে তাই ক্যানডিড ফটো তুলা তাই দ্যুম করে টেলিলেন্স কিনে ফেলা।

১২. ফটোগ্রাফি শেখার বার মাস – একবছর হয়ে গেল এত অর্থ, এত সময় নষ্ট হয়ে গেল এবার বিয়ের খেপ না পেলে নয়, মিশন ফর ওয়েডিং ফটোগ্রাফি।

২৫ই মার্চ, ২০১৩

ফটোগ্রাফির পথ চলার পথচারীরা

আমার ফটোগ্রাফির পথ চলার রাস্তা অনেক দীর্ঘ। আমি অনেকগুলো রাস্তা হেঁটেছি কখনো একলা কখনো কারোর ইশারায় দেখিয়ে পথ ধরে। কখনো হোঁচট খেয়েছি ভুল রাস্তাতে হেঁটেছি বহুবার। একেক পথ শেষে অর্জন করেছি নতুন অভিজ্ঞতা। আমি ফটো তুলতাম ঝোঁকের বশে বাবার দেখিয়ে দেয়া পথে। সেটি বহু পুরানো দিনের কথা। তাও অনিয়মিত বছরে একবার কি দু’বার।

২০১১ এর প্রথম দিকে আমার সত্যিকার প্রফেশলান ফটোগ্রাফির চর্চার ভূতটা চাপিয়েছিল আমার সহপাঠী মুনীম। আমি বরাবর ডিজিটাল ক্যামেরাতে সন্তুষ্ট থাকতাম। ও আমাকে বলেছিল “টিটিএল” ফটোগ্রাফি গ্রুপের কথা। পরে জানতে পারলাম সেখানে কোন এক শনিবার সারা দিন ভর ফটোগ্রাফির বেসিক কোর্স করতে গিয়ে ফটোগ্রাফির টেকনিকাল বিষয়গুলো মাথা উপর দিয়ে গেল। সেখানে ইন্সট্রাক্টর হিসাবে পেলাম দারুন হৃদয়ের মানুষ ও অহংকারহীন ফটোগ্রাফার সাউদ আল ফয়সাল ভাই। উনি সেদিন দারুন সব প্রেজেন্টেশানের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন ফটোগ্রাফি অসংখ্য অজানা বিষয়গুলো । সে থেকে ভূত ঢুকে গেল ফটোগ্রাফির। সেদিনের কোর্স শেষে ফয়সাল ভাই জানালেন সামনে একটা ফটো সাফারী আছে সেখানে যেতে লিচুর দেশ দিনাজপুরে। সানন্দে রাজী হয়ে গেলাম।

আমার বন্ধুসুলভ বড় ভাই অনুপম ভাইকে রিকোয়েস্ট করলাম একটা সেকেন্ড হ্যান্ড প্রফেশলান ক্যামেরার বিক্রির জন্যে উনি আমার জন্যে ক্যানন এক্স টিই আই (৪০০ডি) এর ব্যবস্থা করলেন।

দিনাজপুরে গিয়ে আমি পরিচিত হলাম দারুন সব ফটো ব্যাক্তিত্বদের সাথে হাসিন ভাই, রিপন ভাই, সুদীপ্তদা। হাসিন ভাই আমাকে প্রথম জানালেন কোথায় কি ফটো তুলতে হবে। আমি ওয়াইড লেন্স সম্পর্কে সেদিন পরিচিত হলাম। তখন আমি সবে অটো থেকে ম্যানুয়াল মুডে ফটো তোলা শেখা শুরু করলাম। বিভিন্ন গ্রুপের সাথে ফটো ওয়াকে যেতাম, ফটো আড্ডাতে যেতাম। একসময় ফটো প্রদশর্নীতে ছবি চলে গেল খুবই অবাক হলাম। আগ্রহ বেড়ে গেল।

একসময় উপলব্ধি করলাম আমার ফটোগ্রাফি চর্চা একটা জায়গাতে আটকে আছে। একগাদা বই কিনে ফেললাম। ভিডিও টিউটোরিয়াল জোগাড় করে শুরু করে দিলাম পড়াশুনা। আমি অনেক সিনিয়র ফটোগ্রাফারদের কাছে এটা ওটা জানতে চেয়েছি সবাই গম্ভীর হয়ে বলেছিল, নেটে পাবেন আবার, কেউ বিরক্ত হয়েছিল। তখন থেকে বুঝতে পেরেছিলাম মুক্ত চিন্তার ফটোগ্রাফির চর্চা বলে কিছু নেই। সেই চর্চা একদল অহংকারী ফটোগ্রাফারদের বেড়াজালে বন্দী।

২০১২ সালে আমি হাসিন ভাই ফটো তুলতে তুলতে নিজের মতন ফটোগ্রাফির গ্রুপ খুলে ফেললাম এবং নাম দিলাম গ্রাসহপার্স। আমাদের স্বপ্ন ছিল যেখানে সবাই মুক্ত চিন্তার ফটোগ্রাফি চর্চা করবে। এর আগে কোনদিন আমি কোথাও মুক্ত চিন্তার চর্চা করতে পারি নি। আমি শুরু করলাম তুমুলভাবে ফটোগ্রাফি চর্চা। অনেক তরুন প্রতিভাবান মুখ পেয়ে গেলাম পারভেজ, শাহাদাত, তুষার, শারমিন, তনয়, মুক্তার, মইন, জিশান, স্বপ্নীল, মেহেরুন, ফাহাদ, সাকিব, হুমায়রা, সুদিপ্ত, রানা, মাহফুজ আনাম, বীজু, মাসুম, সাব্বির এরকম অনেক মুখ। এরা আমার ফটোগ্রাফির চলা পথে কোন না কোন ভাবে আলো দেখিয়েছিলেন, দেখাচ্ছেন।

অতঃপর জানতে পারলাম আরো অনেকগুলো গ্রুপের কথা তাদের মধ্যে অন্যতম শুধুই বাংলা, শখের ফটোগ্রাফি, ওল্ড ঢাকা ফটোগ্রাফি, ফটোফি গ্রুপের কথা সুদীপ্ত সালাম ভাইয়ের কথা, পরিচিত হলাম নীলয়, অনুপম, পবিত্র পাপী, ফয়সাল আরো অনেকের সাথে।

শুধুই বাংলার সোহান ছেলেটার সাথে পরিচয় বেশী দিনের নয়, ও দারুন উচুঁ মনের মানুষ ও ফটোগ্রাফার। আমাকে সেদিন একগাদা ফটোগ্রাফি বিষয় ভিডিও টিউটোরিয়াল দিল এত ভালো লাগলো সেগুলো দেখে। ওর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা দ্বিগুন বেড়ে গেল। আমার ধারনা ছিল যারা উচুঁ মাপের ফটোগ্রাফার তারা উচুঁতে থাকতে পছন্দ করেন তারা আমাদের মতন নিচুসারির ফটোগ্রাফারদেরকে কিছু শেখাতে অপমানবোধ করেন।

তারপর দারুন লেখক মাহীর এমন অনেক প্রতিভাবান আছে যাদের নাম লিখতে বিশাল ইতিহাস হয়ে যাবে।

অনেকের সাথে দেখা হচ্ছে পথে ঘাটে। অনেকের সাথে দেখাই হচ্ছে না। ভুলে যাচ্ছি কারোর নাম কারো চেহারা। ওরাও আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে না। এইভাবে আজও আমি হেঁটে চলছি। সম্মুখে অনেক লম্বা রাস্তা বাকি সেগুলো আমাকে একাই পেরুতে হবে।

২২ই মার্চ, ২০১৩

“স্টপ” নিয়ে কিছু কথা

ফটোগ্রাফী শুরু করার সময় অনলাইনে যত টিউটোরিয়াল পড়তাম সব জায়গাতেই প্রথমেই যেই সমস্যাটায় পড়তাম সেটা হল “স্টপ” শব্দটা নিয়ে। সবখানেই বলে এক স্টপ, দুই স্টপ লাইট বাড়াও, কয়েকস্টপ আইএসও বাড়াও/কমাও – এফস্টপ বাড়াও/কমাও। তো কথা হল এই স্টপ জিনিস টা কি?

 প্রথমে এফ স্টপ নিয়ে শুরু করা যাক। এফ স্টপ ভ্যালু হল অ্যাপারচারের ইনভার্স। এর মান শুরু হয় নিচের মত করে

১, ১.৪, ২, ২.৮, ৪, ৫.৬, ৮, ১১, ১৬, ২২, ৩২

এফ স্টপ যত বাড়ে, তার মানে হল অ্যাপারচার তত কমে। ফাস্ট লেন্স বলতে বোঝায় যার অ্যাপারচার যত বেশী ( অর্থাৎ যার এফ স্টপ ভ্যালু যত কম )। বুঝতেই পারছেন, ফাস্ট লেন্সেরর জন্য প্রয়োজন ভালো অপটিকস এবং জটিল রকমের ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল প্রসেসিং। এইজন্যই ফাস্ট লেন্স গুলোর দাম এত বেশী। এখনকার সব ক্যামেরায় এফ স্টপ ভ্যালু ১/৩ স্টেপিংয়ে বাড়ানো কমানো যায়।

আলোর সাথে স্টপ ভ্যালুর সম্পর্ক: এফ ভ্যালু এক স্টপ বাড়ানো মানে ক্যামেরায় যে পরিমান আলো ঢুকছে তার পরিমান ১/২ কমে যাওয়া। দুই স্টপ বাড়ানো মানে ১/(২*২) = ১/৪ ভাগ কমে যাওয়া। ঠিক একই ভাবে এফ ভ্যালু এক স্টপ কমানো মানে আলোর পরিমান দিগুন বেড়ে যাওয়া 🙂 সহজ হিসেব

আরেকটু জটিল হিসেবে যাওয়া যাক এখন। কিভাবে এক্সপোজারের সাথে এফ স্টপ ভ্যালু এবং শাটার স্পিডের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হয় সেটা দেখি আমরা। ধরুন আপনি দিনের বেলায় ছবি তুলছেন যেখানে নিচের হিসেবে আপনি সঠিক এক্সপোজার পাচ্ছেন

শাটার ১ / ২০০, এফ স্টপ ২.৮

এখন আপনি দেখলেন যে আপনার ১ / ২০০ শাটার স্পিডে কাজ হচ্ছে না। আরো ফাস্ট শাটার স্পিড দরকার। তখন আপনি শাটার স্পিড এক স্টপ বাড়িয়ে দিলেন, ফলে সেটা হল ১/৪০০ (এক স্টপ বাড়ানো = ১/(২০০*২) = ১/৪০০) । শাটার স্পিড এক স্টপ বাড়ানোর ফলে কি হলে বলুন তো? আলোর পরিমান আগে যা ঢুকত তার চেয়ে অর্ধেক ঢোকা শুরু হল। এটাকে ঠিক করার জন্য আপনি কি করবেন এখন? এফ স্টপ ভ্যালু ঠিক এক স্টপ কমিয়ে দিন। এফ স্টপ ভ্যালু আগে ছিল ২.৮, এক স্টপ কমালে সেটা হবে ২ (মনে আছে তো উপরের এফ স্টপ স্কেল?) ফলে এখন আপনার ক্যামেরার সেটিংস হল নিচের মত

শাটার ১ / ৪০০, এফ স্টপ ২

এখনও কিন্তু আপনি ঠিক আগের মতই সঠিক এক্সপোজার পাবেন। ঠিক একই ভাবে নিচের প্রতিটি সেটিংস ই আপনাকে সঠিক এক্সপোজার দিবে এই ছবির জন্য

শাটার ১ / ১০০, এফ স্টপ ৪

শাটার ১ / ৮০০, এফ স্টপ ১.৪

শাটার ১ / ৫০, এফ স্টপ ৮

এখন ধরুন আপনার লেন্সের ম্যাক্সিমাম অ্যাপারচার হল এফ স্টপ ১.৪। কিন্তু আপনার শাটার স্পিড ১/৮০০ এর চেয়ে বেশি করা দরকার এই দৃশ্যের ফটো তোলার জন্য। কিন্তু আপনি তো লেন্সের এফ স্টপ ভ্যালু আর কমাতে পারবেন না। তখন কি করবেন? এই সময় প্রয়োজন আইএসও ভ্যালুর। শাটার স্পিড ১/৮০০ থেকে এক স্টপ বাড়িয়ে দিন (১/১৬০০), এফ স্টপ ভ্যালু ১.৪ এই রাখুন, এবং এক্সপোজার ঠিক রাখতে আইএসও আগে যা ছিল তার দিগুন করে দিন ( অর্থাৎ এক স্টপ বাড়িয়ে দিন) 🙂

ফটোগ্রাফীর এই বেসিক জিনিস গুলো বুঝলে আপনি দেখবেন প্রয়োজনের সময় পাগলের মত ট্রায়াল অ্যান্ড এররের মাধ্যমে বা আন্দাজে এক্সপোজার ঠিক না করে আপনি জেনে শুনে বুঝে সব সেটিংস ঠিক করতে পারছেন। এর ফলে আপনার ফটোগ্রাফী আগের চেয়ে অনেক সহজ হবে আশাকরি।

সামনে আবার অন্য কোন টপিকস নিয়ে লিখব 🙂

(কৃতজ্ঞতা স্বীকার : হাসিন হায়দার)

কিভাবে একটি ছবির সমালোচনা করা উচিত এবং কি উচিত নয়

প্রতিটি ছবি প্রতিটি ফটোগ্রাফারের নিজের সন্তানের মতন প্রিয়। তাই হ্যান্ডেল উইথ কেয়ার, এ কথাটি একটি ছবি সমালোচনার সময় মনে রাখবেন।

১. একটি ছবি দেখুন, ভাবুন ছবিটির বৈশিষ্ট্য কি, মূল বক্তব্য কি, এটি কি ল্যান্ডস্কেপ, পোট্রেট নাকি স্ট্রীট নাকি এবস্ট্রাক্ট নাকি ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি। ছবি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে সেইভাবে ক্রিটিক করবেন। যেমন: এফ২.৮ এ পোট্রেট তোলার অভ্যাস নিয়ে ল্যান্ডস্কেপ তুলতে গিয়ে কাউকে বলবেন না এফ২.৮ এ ছবি আরো ভালো আসত।

২. একটি ছবির সম্পর্কে যখন কোন আলোচনা করতে যাবেন তখন খেয়াল রাখবেন আপনার বক্তব্য যেন দৃষ্টিকটু না হয় এবং এমন কিছু বলবেন না যাতে আপনি হাস্যরসের পাত্র হয়ে যেতে পারেন। এছাড়া রাগান্বিত হয়ে কথনোই বক্তব্য দিবেন না যাতে করে একটি ফটোগ্রাফারের ছবি তোলার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

৩. ব্যবহারে বংশের পরিচয়, আপনি অহেতুক তর্কে জড়াবেন না। গালাগালি ও অশ্লীল শব্দ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। আপনি যদি ভুল বলে থাকেন তাহলে সরি বলে নিবেন এতে আপনার সম্মান কমবে না বরঞ্চ আপনার প্রতি সবার শ্রদ্ধা দ্বিগুন হয়ে যাবে। কেননা, ভুল করা মানুষের ধর্ম। আমাদের সবার উচিত ভুলকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা।

৪. আপনি যেটুকু জানুন সেটুকু বলুন, আগ বাড়িয়ে অতি আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল বলতে যাবেন না। আপনার জ্ঞান বাড়ানোর জন্যে বই পড়ুন, টিউটোরিয়াল দেখুন, ফটোবন্ধুকে জিজ্ঞাসা করুন। মনে রাখবেন, না জানাটা দোষের কিছু নয় তবে জানতে না চাওয়াটা বোকামী ছাড়া কিছুই নয়।

৫. যখন একটি ছবির ক্রিটিক করবেন, আপনার বক্তব্যের মূল বিষয় থাকবে খুঁটিনাটি বিষয় যেমন, রুল অফ থার্ড, আলো পর্যাপ্ত ব্যবহার, ব্যালেন্সিং, সেটিংস, সাবজেক্ট চয়েস, ক্যাপশন কারেকশান ইত্যাদি। এছাড়া আপনি গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিবেন যাতে করে সবাই উপকৃত হয়।

৬. ছবির নিয়ে আলাপ করুন কিন্তু ফটোগ্রাফারকে ব্যাক্তিগতভাবে আক্রমন করে নিজের স্মার্টনেস প্রমান করতে যাবে না বরঞ্চ এতে নিজেই আপনি আপনার সম্মান হারাবেন।

৭. যতটুকু কথা বলবেন, ছবি সংক্রান্ত কথা বলবেন অপ্রাসংঙ্গিক কথা কম বলবেন।

৮. ক্রিটিক করার সময় বড়দের সম্মান করে কথা বলবেন এবং ছোটদের স্নেহ করে কথা বলবেন। মনে রাখবেন, ভালো ব্যবহার আপনাকে সম্মানিত ব্যাক্তিতে পরিনত করবে।

হ্যাপি ক্লিকিং।